বহিরাগত কুরবানীর পশুর গোশতের বিধান

প্রশ্ন

বাইরে থেকে যে গরু আসে বড়ো বড়ো মাদ্রাসাতে,আবার ওই গরু গ্রামে গ্রামে এক একজন ৩০ টি গরু দায়িত্ব হিসাবে নিয়ে আসে, আর গরু নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে উক্ত ব্যক্তি গরু দিয়ে থাকে 'এই গরু নেওয়া যাবে কি ? আর এই গরু কোথা থেকে আসে' দয়া করে যানাবেন

প্রশ্নকারীর নাম: সেখ নুরুজ্জামান

প্রশ্নকারীর ঠিকানা: আটপুকুর হাড়োয়া উওর২৪পরগণা

প্রকাশিত: 28-06-2023

উত্তর

ফতওয়া নং ১৭০

 

 

      মাদ্রাসায় যে গরু গুলি আসে, তা কোথা থেকে কিভাবে আসে সেটা যার মাধ্যমে আসে তারা ভালো জানবেন। তবে অনেকের জানা আছে যে, আইনী বাধ্যবাধকতা  বা গোশতের  প্রয়োজনীয়তা না থাকা প্রভৃতি কারণে বিদেশের অনেকে তাদের কুরবানীর পশু নিজের এলাকায় কুরবানী না করে অন্য এলাকায়      কুরবানী করার জন্য  কোনো কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে তাদের হাতে বা একাউন্টে  পশুর মূল্য পাঠিয়ে থাকে।   আর মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিরা যেহেতু মাদ্রাসার কালেকশনের উদ্দেশ্যে ওই সমস্ত এলাকায় যেয়ে থাকেন, তাই ওই দায়িত্বটি মাদ্রাসার কালেক্টর বা পরিচালকরাই সাধারণত পেয়ে থাকেন। আর যাতে পশুগুলির চামড়া বিক্রির টাকা মাদ্রাসা পায়, তার জন্য  মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব নিয়েও থাকেন। এমনি ভাবে যখন শত শত পশু কুরবানীর দায়িত্ব একটি প্রতিষ্ঠান পায়, তখন যাতে এই বিপুল পরিমাণ  গোশত নষ্ট না হয়ে,  মানুষ ভোগ করতে পারে তার জন্য এই পশুগুলিকে কুরবানী করার দায়িত্ব 
বিভিন্ন এলাকার মানুষকে দিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে। আর তাদেরকে বলা হয়ে থাকে যে, গোশত আপনারা নিয়ে নেবেন, চামড়া মাদ্রাসায় দিয়ে যাবেন। পশুগুলিকে আসল মালিকের পক্ষ থেকে কুরবানী করা হয়ে থাকে। এর  উপকার হল,  যাদের পশু তারা কুরবানীর হয়রানি থেকে বেঁচে যায়, মাদ্রাসা চামড়ার টাকা পেয়ে  কিছু উপকৃত হয় এবং  কিছু মানুষ গোশত ভোগ করতে পেরে উপকৃত হয়। অতএব এই পশু বা গোশত যাকে দেওয়া হয়, তার নেওয়ায় শরয়ী কোনো বাধা নেই।

 

               স্বাক্ষরঃ

মুফতী সাইফুল ইসলাম কাসিমী
ফতওয়া বিভাগ,জামিয়া নু'মানিয়া।
২৭ রবিউল আউয়াল ,১৪৪৫হিজরী(13/10/2023)


উত্তর দেখা হয়েছে : 192