প্রশ্ন
কোন কোন প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়, বাতিল ও গোমরাহ ফেরকাদের সাথে মুনাযারা বা বিতর্ক শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে কোন ছাত্র নিজেকে বাতিল ফেরকার সদস্য হিসেবে প্রকাশ করে থাকে এবং আহলে হককে গোমরাহ ও কাফের সাব্যস্ত করে থাকে এ সম্পর্কে শরীআতের বিধান কী ?
প্রশ্নকারীর নাম: Mohammed abuzer molla
প্রশ্নকারীর ঠিকানা: Suncity masjid e Alamgir Hyderabad Telangana India
প্রকাশিত: 23-08-2023
উত্তর
ফতওয়া নং ১৩৬
কুফরী আকীদা পোষণ না করা সত্ত্বেও মৌখিকভাবে কুফরী বাক্য উচ্চারণ করা কুফরী। -মাজমুআয়ে ফাতাওয়া ২/৩৬০
হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ রহ. বলেন, অন্তরে কুফরী আকীদা না থাকলেও মৌখিকভাবে কুফরী বাক্য উচ্চারণ করা হারাম এবং আল্লাহ তা'আলার ক্রোধের যোগ্য অপরাধ। যেমনিভাবে কেউ তোমাকে গাধা শুকর কিংবা অন্য কোন খারাপ নাপাক জিনিস বলে গালি দিল, ঐ লোক আন্তরিকভাবে এ বিশ্বাস রাখে না যে, বাস্তবেই তুমি গাধা, শুকর বা অন্য কোন নাপাক বস্তু যা বলে গালি দিয়েছে; বরং এটি নিছক তার মৌখিক গালি সৰ্বস্ব । বলো তো! ঐ গালি শুনে তোমার ক্রোধ হবে কিনা? অবশ্যই তোমার ক্রোধ আসবে। ঠিক একইভাবে বুঝে নাও যে, কুফরী বাক্যসমূহও আল্লাহ পাকের ক্রোধের কারণ হয়।
বাতিল ও গোমরাহ ফেরকাদের সাথে মুনাযারা বা বিতর্ক শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে কোন ছাত্র নিজেকে বাতিল ফেরকার সদস্য হিসেবে প্রকাশ করা এবং আহলে হককে গোমরাহ ও কাফের সাব্যস্ত করা মোটেও বৈধ নয়, কঠিন গুনাহের কাজ। এর কারণে ঈমান চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে । কুফরের স্বীকৃতি এবং মৌখিক উচ্চারণ উভয়টাই কুফরী; যদিও ই'তিকাদ বা বিশ্বাস না হোক, ঠাট্টার ছলে হোক। ফুকাহায়ে কেরাম এগুলোকেও কুফরের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। অতএব মুনাযারার পদ্ধতি এভাবে ঠিক করবে যে, ঐ বাতিল গ্রুপের পক্ষ থেকে একজন বলবে, যদি কাদিয়ানী এরূপ বলে তবে এর কী জবাব আপনার কাছে আছে? যদি রেযাখানী এই বলে তার জবাব কী হবে? কুফরী বাক্য নিজের মুখ থেকে নিজের বাক্য হিসেবে কখনোই প্রকাশ করবেনা; যদিও তা বানোয়াট ওকালতীর নিয়তে হোক।( ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১৮/১২৪,
ফাতাওয়া রহীমিয়া ২/১৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
স্বাক্ষরঃ
মুফতী সাইফুল ইসলাম কাসিমী
ফতওয়া বিভাগ,জামিয়া নু'মানিয়া।
৬ সফর,১৪৪৫হিজরী(24/08/2023)
উত্তর দেখা হয়েছে : 390