ফরয গোসল করার নিয়ম

প্রশ্ন

ফরজ গোসল করিবার সম্পূর্ণ পদ্ধতি টি জানাইলে উপকৃত হইবো। জাযাকাল্লাহ

প্রশ্নকারীর নাম: হাসান

প্রশ্নকারীর ঠিকানা: তাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ

প্রকাশিত: 29-09-2023

উত্তর

ফতওয়া নং ১৯৩

 

 

        মাসআলা : (গোছল করিবার পূর্বে প্রথম মনে মনে নিয়ত করিবে অর্থাৎ, চিন্তা করিবে যে, “আমি পাক হইবার উদ্দেশ্যে গোছল করিতেছি।") তারপর প্রথমে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুইবে, তারপর এস্তেঞ্জার জায়গা ধুইবে। হাতে এবং এস্তেঞ্জার জায়গায় নাজাছাত থাকুক বা না থাকুক, এই জায়গা প্রথমে ধুইবে। তারপর শরীরের কোথাও নাজাছাত লাগিয়া থাকিলে তাহা ধুইবে, তারপর ওযূ করিবে। যদি কোন চৌকি বা পাথরের উপর গোছল করে (যাহাতে পরে আর পা ধোয়ার দরকার হইবে না,) তবে ওযূ করার সঙ্গে সঙ্গেই পাও ধুইয়া লইবে, আর যদি এমন জায়গায় গোছল করে যে, পায়ে কাদা লাগিয়া যাইবে এবং পরে আবার ধুইতে হইবে, তবে পূর্ণ অযূ করিবে কিন্তু পা ধুইবে না। তৎপর তিনবার মাথায় পানি ঢালিবে, তারপর তিনবার ডান কাধে পানি ঢালিবে, তারপর তিনবার বাম কাঁধে পানি ঢালিবে। পানি এমনভাবে ঢালিবে যাহাতে সমস্ত শরীর ধুইয়া যায়। তারপর পাক জায়গায় সরিয়া গিয়া পা ধুইয়া লইবে, আর যদি ওযূর সঙ্গে পা ধুইয়া থাকে, তবে আবার ধোয়ার দরকার নাই। শরহে তাবীর

২। মাসআলাঃ পানি ঢালিবার পূর্বে সমস্ত শরীর ভালমতে ভিজা হাত দ্বারা মুছিয়া দিবে, তারপর পানি ঢালিবে। এইরূপ করিলে সহজে সমস্ত জায়গায় পানি পৌঁছিয়া যাইবে, কোথাও শুকনা থাকবে না। —মুনইয়া

৩। মাসআলাঃ উপরে গোছলের যে নিয়ম বলা হইয়াছে ইহাই সুন্নত মোতাবেক গোছল। কিন্তু ইহার মধ্যে কয়েকটি কাজ এমন আছে যাহা না হইলে গোছলই হয় না; যেমন নাপাক তেমন নাপাকই থাকিবে, সেগুলিকে 'ফরয' বলে। আর কতকগুলি কাজ এমন আছে যাহা করিলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু না করিলে গোছল হইয়া যায়, এইগুলিকে 'সুন্নত' বলে। গোছলের মধ্যে ফরয মাত্র তিনটি; যথা— (১) এমনভাবে কুল্লি করা যাহাতে সমস্ত মুখে পানি পৌঁছিয়া যায়। (২) নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছান ; (৩) সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছান। – হেদায়া

 

            স্বাক্ষরঃ

মুফতী সাইফুল ইসলাম কাসিমী
ফতওয়া বিভাগ,জামিয়া নু'মানিয়া।
১৩ রবিউল আখর ,১৪৪৫হিজরী(29/10/2023)


উত্তর দেখা হয়েছে : 377